অমর একুশে বইমেলায় নিজের লেখা বই ফেরি করে বিক্রি করছিলেন প্রবীণ লেখিকা ড.আকন্দ সামসুন নাহার। যিনি ব্যান্ড শিরোনামহীনের সাবেক ভোকাল তানযীর তুহিন মা। দু-দিন আগে তুহিনের ৭৫ বছর বয়সী মায়ের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়া প্রকাশের পর ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ছেলে দেশের এত বড় একজন সংগীত তারকা হওয়া সত্ত্বেও মাকে কেন বই হাতে নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতে হচ্ছে! এই প্রশ্ন ও সমালোচনার তীরে রীতিমত ক্ষত হয়েছেন শিল্পী তুহিন। অবশেষে তিনি তার মায়ের বইয়ের প্রচারে এসেছেন বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি)।
তুহিন তার ফেসবুকে মা লেখিকা ড.আকন্দ সামসুন নাহার এর নতুন বইয়ের প্রচারে একটি পোস্ট দিয়েছেন। নতুন ব্যান্ডদল আভাস এই কর্ণধার লিখেছেন, একুশে বই মেলায় ‘লঞ্চ টার্মিনাল’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশ করেছে শিল্পতরু প্রকাশনী। বইমেলায় স্টল নং ২০৩। সোরায়ার্দী উদ্যান, ঢাকা।
নিজের ফেসবুকে মায়ের বইয়ের প্রচার করার জন্য তুহিন ভক্তরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। একইসঙ্গে তুহিনের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
তানযীর তুহিনের মা আগেই জানান, তিনি অনেক আগে থেকে লেখালিখি করেন। বলেন, বই নিজেই বের করেছি। কোথায় এগুলো দিলে পাঠকদের কাছে পৌঁছাতে পারবো, জানা নেই। বই কীভাবে বিক্রি করে আমি তো আসলে জানি না। অনেকদিন ধরেই বই প্রকাশ করছি, বইগুলো বাসায় জমে আছে। আমার বইগুলো মানুষ পড়লেই তৃপ্তি পাবে।
ড.আকন্দ সামসুন নাহার বলেন, আমাকে তো কেউ চেনে না। তাই মেলায় গিয়ে মানুষকে বলে বলেই বই দেখাচ্ছি। কারোর ইচ্ছা হলে কিনছেন, কেউ কেউ দেখে যাচ্ছেন। তবে যারা পড়ছেন, তারা কিন্তু দ্বিতীয়বার মেলায় এসে আমাকে খুঁজছেন, আমার অন্য বইও নিয়ে যাচ্ছেন।
এবারের মেলায় প্রকাশিত সামসুন নাহারের ‘লঞ্চ টার্মিনাল’ মূলত উপন্যাসের বই। বইটিতে লঞ্চ টার্মিনাল ঘিরে একটি পরিবারের গল্প ওঠে এসেছে নানা আঙ্গিকে। তবে এটাই তার প্রথম বই নয়, এর আগেও ২০টি বই প্রকাশ করেছেন তিনি। নিজের আত্মজীবনী লেখা র ইচ্ছা আছে এই লেখিকার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছোট থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত সামসুন নাহার। ইডেন কলেজ থেকে অনার্স ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় মাস্টার্স করার পরেও থেমে থাকেননি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং শিক্ষা-ব্যবস্থাপনায় নিয়েছেন আরও দুটি মাস্টার্স ডিগ্রী। ভারতের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করেছেন পি.এইচ.ডি। দীর্ঘদিন তিনি সরকারী কলেজে অধ্যাপনা করেন। ন্যাশনাল কারিকুলাম অ্যান্ড টেক্সট বুক বোর্ডেও কাজ করেছেন সামসুন নাহার।