বাণিজ্য বাধা দূর করতে বাংলাদেশ-ভারত একমত

Post Image

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় এ বিষয়ে সম্মতির কথা জানিয়েছে দুই দেশ।

বুধবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সফররত ভারতীয় বাণিজ্য, শিল্প ও বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুসহ দুই দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সুরেশ প্রভু বলেন, চুক্তি সইয়ের লক্ষ্যে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করা হবে। এটি যেমন আধুনিক তেমন বাস্তবসম্মত।

বিএসটিআই সনদ নিয়ে ভারত আর আপত্তি তুলবে না বলেও বৈঠকে নিশ্চিত করেন সুরেশ প্রভু। ২৭টি পণ্যে বিএসটিআইয়ের সনদ গ্রহণ করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ২১টি গ্রহণ করা হয়েছিল। নতুন করে আরো ছয়টি পণ্যের সনদ গ্রহণ করবে ভারত।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সব বাণিজ্য বাধা দূর করতে ভারত-বাংরাদেশ একমত। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাসমূহ তুলে ধরা হয়েছে। পাটজাত পণ্য, খাদ্যপণ্য, ভোজ্য তেলসহ বাংলাদেশের বেশকিছু পণ্য ভারতে রপ্তানির ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যাগুলো সমাধান করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। বর্ডার হাটের বিষয়ে উভয়দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বর্তমানে ৪টি বর্ডার হাট চালু রয়েছে, আরো ৬টি বর্ডার হাট চালুর বিষয় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নাকুগাঁও এবং ভারতের ডালু সীমান্তে একটি বর্ডারহাট অল্প কিছুদিনের মধ্যে চালু করা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে। ভারত সরকার মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি লোকসভায় রেকটিফাই করে তা বাস্তবায়ন করেছে। সিটমহলবাসী এখন স্বাধীন জীবনযাপান করছে। উভয়দেশের বাণিজ্য এখন ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। বাংলাদেশ রপ্তানি করছে ৮৭৩.২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য, একই সময়ে আমাদানি করছে ৮৬১৯.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। বাংলাদেশ অনেক রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি ভারত থেকে আমদানি করে অনেক দেশে পণ্য রপ্তানি করে থাকে। সেখানে বাণিজ্য বাংলাদেশের পক্ষে।  এখন ভারতের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে।

এ সময় ভারতের বাণিজ্য, শিল্প ও বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী ও ভারতের প্রতিনিধিদলের প্রধান শ্রী সুরেশ প্রভু সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ব্যতিক্রম। বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতি লাভ করছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারত খুশি। উভয়দেশের বাণিজ্য ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা আছে। উভয়দেশের সরকার এবং ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। বৈঠকে আমরা সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। সমাধানের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য করতে ভারত খুবই আন্তরিক। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিএসটিআই-এর টেষ্টিং রিপোর্ট গ্রহণ, ভোজ্যতেল রপ্তানির ক্ষেত্রে জটিলতা, নতুন বর্ডারহাট চালু, পাটপণ্য রপ্তানিসহ যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত যুবককে কাজে লাগানোর সুযোগ এসেছে। ট্যুরিজম ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়ে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য সার্ভিস সেক্টর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে উভয়দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, বিষয়গুলোতে আমরা একমত হয়েছি। উভয়দেশের স্বার্থ রক্ষা করে বাণিজ্য বৃদ্ধি করা হবে।

বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে অতিরিক্ত সচিব মুন্সী শফিউল হক. টেরিফ কমিশনের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মো. শফিকুল ইসলাম, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য্য, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী। ভারতের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শিংলা, ভারতের বাণিজ্য বিভাগের (এফটি-এসএ) যুগ্ম-সচিব ভুপিনদার বাল্লা, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণারয়ের যুগ্ম সচিব শেফালী জুনিগা।