বঙ্গবন্ধুর খুনি নূরকে ফিরিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

Post Image

কানাডার কুইবেকের লা শ্যাতো ফ্রন্টেন্যাক হোটেলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের অন্যতম প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা কর্নেল নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে দিতে কানাডা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

স্থানীয় সময় রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় কুইবেকের লা শ্যাতো ফ্রন্টেন্যাক হোটেলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম পরে এক ব্রিফিংয়ে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাতির পিতার হত্যাকারী নূর চৌধুরী কানাডাতে অবস্থান করছেন। তিনি একজন আত্মস্বীকৃত খুনি এবং বাংলাদেশের আইনে তাঁর সাজা হয়েছে।

শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ আশা করেন। বিচারে দোষী সাব্যস্ত এই খুনি রেহাই পেয়ে যাক, বাংলাদেশের মানুষ তা প্রত্যাশা করে না।       

প্রতি উত্তরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি, এটা আপনার জন্য কতটা বেদনার। নূর চৌধুরী কানাডার নাগরিক নন, তাঁর নাগরিকত্ব নেই।’

তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী এটাও বলেন, আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত কোনো মানুষকে কানাডা ফেরাতে পারে না। কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন বলেও জানান ট্রুডো।

এ সময় শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সাহায্য ও সমর্থন দেওয়ার জন্য কানাডার সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। কিন্তু যখন এটি বাস্তবায়নের প্রশ্ন এসেছে, তখনই তাঁরা নীরব ভূমিকা নিয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান থেকে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তাঁরা নিরাপদ ও ভালো জীবনযাপন করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে শেখ হাসিনা কুইবেক থেকে টরন্টো যান। সেখানে মেট্রো কনভেনশন সেন্টারে স্থানীয় সময় বিকেলে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ ছাড়া সোমবার তাঁর কানাডায় নিযুক্ত মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত বব রের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।

গত শনিবার জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের প্রতি চাপ প্রয়োগে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জি-৭ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।