ত্যাগ না করলে অর্জন করা যায় না : ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী

Post Image

‘স্যাক্রিফাইস (ত্যাগ) করাটা শিখতে হবে। স্যাক্রিফাইস না করলে কিন্তু কিছু অর্জন করা যায় না। অর্জন তখনই করতে পারবে যখন কিছু দিতে পারবে।

ছাত্রলীগের উদ্দেশ্য এমনটা বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম ও অর্জনে ছাত্রলীগের ভূমিকা রয়েছে। আদর্শহীন রাজনীতি কোনো রাজনীতি নয়। আদর্শ নিয়ে এগিয়ে গেলে অবশ্যই তাতে দেশের মানুষের কল্যাণ হবে।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মনে রাখতে হবে, ছাত্র রাজনীতি আমরা করব। কিন্তু শিক্ষা গ্রহণ করাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় এবং সবার আগের কাজ। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা' বই দুটি পড়ার পরামর্শ দেন এবং দেশকে ভালবাসার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ‘তোমরা এমন নেতৃত্ব খুঁজবে যারা সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিয়ে তোমাদের এই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পারে, যাতে আগামীদিনে তোমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারো জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে।’

নতুন নেতৃত্বের বয়স প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রলীগের বয়স আমরা ২৭ বছর করে দিয়েছিলাম। দুই বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ ৯ মাস বেশি হয়ে গেছে। আমি চাই না এই ৯ মাস বেশি হয়েছে বলে কেউ বঞ্চিত হোক। কাজেই এটাকে আমরা এক বছর গ্রেস দিতে পারি। কাজেই ২৮ বছরের মধ্যে আছে যারা তারাই হবে। কারণ, এখন কোনো সেশন জট নেই। ২৩ থেকে ২৪ বছরের মধ্যেই কিন্তু মাস্টার্স ডিগ্রি পাস হয়ে যায়। দরকার হলে ডাবল মাস্টার্স করা যায়। এরপরও বয়স থাকে।’

প্রসঙ্গত, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ বয়স ২৭ বছর হলেও সময়মতো কাউন্সিল না হওয়ায় গত দুটি কমিটিতে দুই বছর করে বাড়িয়ে ২৯ বছর করা হয়েছিল। এবার দুই বছরের পরিবর্তে এক বছর বাড়িয়ে ২৮ বছর করা হলো।

এর আগে বিকেলে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এরপর বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী দ্বি-বার্ষিক এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরিবেশন করা হয় দলীয় সংগীত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।