মানুষই মূল, তাঁর মঙ্গলে শোভাযাত্রা

Post Image

আজ শনিবার সকালে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণ আর বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নতুন বছরের প্রথম সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা।

সমস্ত অপশক্তিকে দূরে ঠেলে মানুষের মঙ্গল কামনায়, সোনার মানুষ হয়ে ওঠার বার্তাই উঠে এসেছে এবারের কেন্দ্রীয় মঙ্গল শোভাযাত্রায়। মানুষকে মূল ধরে, সেই মানুষের সঙ্গ-সাধনার লোকায়ত ভাবধারার কথাই বেজে উঠেছে পয়লা বৈশাখের আবাহনে। আজ সকালে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণ আর বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নতুন বছরের প্রথম সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় সেই মঙ্গল শোভাযাত্রা।  

‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ বাউলকবি লালন শাহের মানবতার এ বাণীকে প্রতিপাদ্য ধরেই এবারের আয়োজন ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রায়। যা ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর জাতিসংঘের ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। তবে চিরায়ত রীতি অনুযায়ী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মুখে ছিল না কোনো মুখোশ। হাতে ছিল বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড।

সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে চারুকলা ইনস্টিউট থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। অন্যান্য বারের মতো এবারও শোভাযাত্রাটি চারুকলা ইনস্টিটিটের গেট দিয়ে বের হয়ে টিএসসি ঘুরে শাহবাগ মোড় পেরিয়ে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালের সামনে নিয়ে ঘুরে আবার চারুকলায় গিয়ে শেষে হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নিতে শনিবার সকাল থেকেই ঢাবি ক্যাম্পাসের দিকে ছিল মানুষের ঢল। শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পরও অনেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান থেকে এতে অংশ নিয়েছেন। বাঙালিদের সঙ্গে এবার প্রচুর সংখ্যক বিদেশিও অংশ নেয় মঙ্গল শোভাযাত্রায়।

এবারের শোভাযাত্রায় মোট আটটি মোটিফ তৈরির প্রস্তুতি থাকলেও কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে একটি মোটিফ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ফলে সাতটি মোটিফ ছিল শোভাযাত্রায়। এগুলো হলো- মা পাখির সঙ্গে ছানা, হাতি, মাছ ও বক, মহিষ, সূর্য, টেপা পুতুল এবং সাইকেলে মা ও মেয়ে।

এবার শোভাযাত্রায় নতুন মোটিফ ছিল মহিষ। মহিষ আসলে শান্ত ও নিরীহ একটি প্রাণী। মানুষের ধীরস্থিরের প্রতি নজর দিতে এটা করা হয়েছে। মূলত মানুষকে বুঝতে পরলেই সোনার মানুষ হওয়া যাবে, এটাই এবারের মূল উপজীব্য।

মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ছায়ানটের অনুষ্ঠান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল বেশ তৎপর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবার বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে। নির্দেশনা অনুযায়ী, এবার মঙ্গল শোভাযাত্রাটি র‍্যাব ও পুলিশ চারদিক থেকে ঘিরে রাখে। মুখে কাউকে মুখোশ পরতে দেওয়া হয়নি। কারো হাতে ছিল না ব্যাগ।

শুধু সকাল ৯টার আগে যারা এসেছে তারাই শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পেরেছে। শোভাযাত্রা শুরুর পর নতুন করে কাউকে আর মূল শোভাযাত্রায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে শোভাযাত্রাটি দেখতে সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ ঝড়ো হয়। তাঁরা করতালি দিয়ে শোভাযাত্রাকে স্বাগত জানায়।

অনুষ্ঠান ঘিরে র‍্যাব ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে শতাধিক ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়। রমনা বটমুলের মূল অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের জন্য আশপাশের সড়কগুলোর মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে তল্লাশি করা হয়। যারা ব্যাগ নিয়ে এসেছে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আশা লোকজনকে ডিএমপির পক্ষ থেকে বাতাসা ও গোলাপ ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ ছিল এক অন্যরকম অনুভুতি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের তৎপরতা মাটিতে যেমন ছিল তেমনি ছিল আকাশে। আকাশ থেকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়।